সরকার জেলা ভিত্তিক পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে পরিকল্পনা করছে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী, এমপি বলেছেন দেশ ও বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সরকার জেলা ভিত্তিক পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনা করছেন। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ। একই সাথে রয়েছে আমাদের হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জীবনাচরণ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস। পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যকে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটিতেই পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। এই স্থান গুলোর উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব। আমরা প্রতিটি জেলায় জেলাভিত্তিক পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি। ইতিমধ্যেই সকল জেলার পর্যটন আকর্ষণ এর সচিত্র তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী তার ভাষণে আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে নির্বিঘেœ যাতায়াত সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি বা পর্যটন সহযোগী সড়ক প্রকল্প উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে চলেছি।

বাংলাদেশ, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জাতিয় পর্যটন সংস্থা সমূহসহ  ৪১ টি ট্যুর ও ট্রাভেলস সংস্থা সাতটি প্যাভিলিয়ন ও ৭০ টি স্টলে মেলায়অংশগ্রহণ করে। 

পর্যটন সংক্রান্ত প্রকাশনা সংস্থা বাংলাদেশ মনিটরের আয়োজনে ১৬তম বারের মত আয়োজিত এই মেলায় অন্য অংশীদাররা হলো নভোএয়ার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিঃ, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডক্টর ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস, নভোএয়ার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মফিজুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ এবং বাংলাদেশ মনিটর এর প্রধান সম্পাদক রাকিব সিদ্দিকী।

মো: জিয়াউল হক হাওলাদার এবং কাজী আসমা আনসারী

           

                                                                        সাক্ষাৎকারসাক্ষাৎকার গ্রহণ: শংকর কুমার মজুমদার

কাজী আসমা আনসারী সদা হাস্যোজ্জল, সদালাপী একজন মানুষ। যিনি বাংলাদেশি পাসর্পোর্ট নিয়ে ১০০ টি দেশ ঘুরে এক অনন্য কীর্তি সৃষ্টি করেছেন। তিনি বাংলাদেশের একজন কীর্তিমান তরুণ পর্যটক। তিনি দেশ-বিদেশ ঘুরে বাংলাদেশকে পরিচিতি করিয়েছেন বিশ্বঅঙ্গনে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাভেলার্সদের মধ্যে অন্যতম এক নাম কাজী আসমা।  ইতোমধ্যে তিনি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ভিজিট করেন। সে সুযোগে জনাব মো: জিয়াউল হক হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এর নির্দেশনায় তাঁর স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন 

প্রশ্ন: আপনার পরিচয়?

কাজী আসমা: আমার নাম কাজী আসমা আনসারী, বাসা খুলনায়, বেড়ে ওঠা ও বড় হওয়া খুলনায়। 

প্রশ্ন: আপনার গ্রামের বাড়ি?

কাজী আসমা: দেশের ৩টি জেলায় আমাদের গ্রামের বাড়ি রয়েছে। গ্রামের বাড়ি বলতে কুমিল্ল­া জেলার চৌদ্দগ্রামের সিওড়া কাজী বাড়ি। আর দাদার বাড়ি ফেনীতে। পরবর্তীতে আমার আব্বু বিজনেসের জন্য খুলনায় আসেন । ব্যবসার কারনে খুলনাতে সেটেল্ড হন। এরই সুবাদে আরও একটি গ্রামের বাড়ি হল আমাদের খুলনায়। এখানে স্থায়ীভাবে আমাদের বসবাস। এখান থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে বিভিন্ন জেলায় বন্ধুদের বাড়ি যাওয়া ও দেশ ভ্রমণ করা।

প্রশ্ন: আপনার শিক্ষা জীবন কোথায় ও কিভাবে শুরু হয়?

কাজী আসমা: ছোট বেলা থেকে খুলনার স্কুলে পাঠদান।  ইকবালনগর গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি, খুলনা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি, নর্থ সাউথ ইউনিভাসির্টি থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে (বিবিএ) মার্কেটিং-এ স্নাতক করেন। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভাসিটি থেকে একই বিষয়ে এমবিএ করেন।  

প্রশ্ন: দেশ ভ্রমণ সম্পর্কে আপনার ভাবনা কিভাবে জেগে উঠল?

কাজী আসমা: স্কুলে পড়াকালীন সময়ে আমি ঘুরে বেড়াই। আমার খুব দেখতে ও জানতে ইচ্ছে করে। স্কুলে পড়াকালীন সময়ে খুলনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যেমন ষাট গম্বুজ মসজিদ, খান জাহান আলীর সমাধিসৌধ, সুন্দরবন, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি, স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের বাড়ি প্রভৃতি জায়গা দেখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে আমার বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরা হয়। অর্থাৎ প্রায় ৩০টি জেলা ঘোরা হয়।

প্রশ্ন: কবে থেকে বিদেশ ভ্রমণ শুরু হয় এবং কতগুলো দেশ ভ্রমণ করেছেন?

কাজী আসমা: ২০০৭ থেকে বিদেশ ভ্রমণ শুরু হয়, যখন আমি গ্রেজ্যুয়েশন করি। আর এটা হচ্ছে দেশের বাইরে। এখন পর্যন্ত মোট ১০০টি দেশ ঘোরা হয়েছে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছি। তুরকীস্থান হচ্ছে শেষ বার ঘোরা দেশ। সেটা ২০১৮ সনের অক্টোবর মাস।

প্রশ্ন:  ট্যুরিস্ট এবং ট্রাভেলারের মধ্যে পার্থক্য কি?

কাজী আসমা: ট্যুরিস্ট এবং ট্রাভেলারের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। ট্যুরিস্টরা সাধারণত অল্প সময়ের জন্য ঘুরে বেড়ায়। আর ট্রাভেলারগণ দীর্ঘ সময় নিয়ে বেড়িয়ে পরে। বিদেশি  ট্রাভেলারদের বাংলাদেশ সম্পর্কে ভাল ধারণা রয়েছে। 

প্রশ্ন: আপনি তো অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। বাংলাদেশের পর্যটন সম্পর্কে বিদেশিদের অনুভূতি কেমন?

কাজী আসমা: আমার শিকাগোতে থাকাকালীন সময়ে জানতে পারলাম আমার বন্ধুরা বাংলাদেশ থেকে ঘুরে গিয়েছে এবং তারা ডক্যুমেন্টরী করে। তারা বংলাদেশ সম্পর্কে বলেছে যে, এত ভাল - এতো ভালো। তারা চুয়াডাঙ্গায় গিয়েছে- অনেকে ফ্রি খাইয়েছে এটা বাংলাদেশের বাইরে সম্ভব নয়। আতিথেয়তা খুব ভালো। অনেক পর্যটকরা অনেক ভাবে বাংলাদেশকে জানেন। তবে বাংলাদেশের মানুষের যে খুব আন্তরিকতা রয়েছে তা ট্যুরিস্টরা প্রকাশ করেছে। 

প্রশ্ন:  কক্সবাজার, কুয়াকাটা সম্পর্কে আপনার ধারনা ও ভাবনা?

কাজী আসমা: বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। যখন বিদেশি বন্ধুদের কাছে যাই তখন আমার দেশ বাংলাদেশ বললেই তারা তাদের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে। কক্সবাজারে সার্ফিংয়ের বিষয়ে জানতে চায়। এখনতো অনেকেই সার্ফিংয়ে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশকে তারা চেনে। যেমন: তাদের গার্মেন্টস পোষাকে প্রত্যেকটি টেগে বাংলাদেশ আছে। এছাড়াও অনেক পজেটিভ থিম আছে। তবে লোকাল মানুষজন বিদেশি পর্যটকদের দিকে তাকিয়ে থাকে। এ বিষয়টি অনেক ট্যুরিস্ট ভালো ভাবে নেন না।

কুয়াকাটা : কুয়াকাটা অসম্ভব সুন্দর জায়গা। এখানে লাল কাকড়া দেখা যায়, যা অনেক জায়গায় নেই। দেখার মত জায়গা কুয়াকাটা। সুর্যোদয় ও সুর্যাস্ত খুব সুন্দর দেখা যায়।

প্রশ্ন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর উদ্যোগে পর্যটকদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠন করেছে। এ সম্পর্কে আপনার ধারনা?

কাজী আসমা: এটা আমাদের দেশের জন্য অনেক ভালো উদ্যোগ। পর্যটকরা নিরাপত্তা পাবে। 

প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রতœতত্ত¡ নিদর্শন সম্পর্কে পর্যটকদের ধারণা কেমন এবং আপনার অনুভূতি কি?

কাজী আসমা: প্রতœতত্ত¡ নির্দশনের মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ বিশেষ ঐতিহ্য বহন করে। এটা নিয়ে অনেকের কিউরিসিটি রয়েছে। যেমন: পাহাড়পুর, বেহুলা লক্ষীন্দরের বাসরঘরসহ অন্যান্য প্রতœতত্ত¡ স্থাপনা নিয়ে ভাবনা, চিন্তার বিষয়ে সাধারণ পর্যটকদের মধ্যেও আগ্রহ জন্মে। যে আদি জিনিস দেখবে।

প্রশ্ন: সুন্দরবন সম্পর্কে পর্যটকদের ভাবনা কেমন?

কাজী আসমা:  বাংলাদেশের অন্যতম নিদর্শন সুন্দরবন। সুন্দরবনকে দেখার বিষয়ে অনেক আগ্রহ থাকে সবার মধ্যে। সুন্দরবনকে দেখার জন্য অনেক ট্যুরিস্ট বাংলাদেশে আসে। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে এবং রয়েছে বিভিন্ন ধরণের প্রাণীর আবাসভূমি।

প্রশ্ন: বৈশাখী উৎসব, মঙ্গল শোভা যাত্রা সম্পর্কে বিদেশি পর্যটকদের অনুভূতির কথা বলুন?

কাজী আসমা: ২০১৫ তে আমার এক আমেরিকান বন্ধু নিয়ে এসেছিলাম। বাংলা ভাষা, বাংলা মাস, বাংলা বছর সম্পর্কে সে জানল। মঙ্গল শোভাযাত্রাতে এত কালারফুল থাকে যা তারা আগে দেখিনি। এধরণের ফেস্টিভ্যাল অত্যন্ত আনন্দের। স্পেন, ভারত ও অন্যান্য দেশে ফেস্টিভ্যাল ক্যালেন্ডর থাকে। যেমন: ব্লুল ফাইট, টমেটো ফেস্টিভ্যাল, দোল উৎসব। ঠিক বাংলাদেশে তেমনি মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলা অত্যন্ত মজার ও আনন্দের। এছাড়াও লালনের ফেস্টিভ্যাল অন্যতম। আমেরিকার এক বন্ধু জানাল সে লালনের ফেস্টিভ্যালে এসেছে। উজবেকিস্থানের বন্ধুরা বলল যে, তারা মাজারের কালচার, সাধুদের কালচার দেখতে বাংলাদেশে এসেছে। এক এক জন ট্যুরিস্ট এক একটা জিনিস পছন্দ করে। এক জন ট্যুরিস্ট বলছেন যে, ট্রেনের উপর মানুষ কিভাবে বসে থাকে। ঈদের সময় ছাড়া এ দৃশ্য কিন্তু দেখা যাবে না। এখানে আমরা যে জিনিস দেখি বিদেশে তা পাবনা। এত মানুষ কোথাও পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে আপনার পছন্দের ভ্রমণ স্থান কোনটি?

কাজী আসমা: বাংলাদেশে আমার পছন্দের ভ্রমণ স্থান বান্দরবান। ওখানে আমার খুব ভাল লাগে। মিলনছড়ি অত্যন্ত সুন্দর জায়গা, ছোট বেলায় ২০০৪ সালে সেখানে প্রথম যাওয়া হয়, পর্যটন এর সুবিধাদি দেখেছি। নদী হেটে পার হওয়া, উপজাতিদের কালচার খুব সুন্দর। ওখানে ডধঃবৎ ঋবংঃরাধষ হয়, যেটা খুব ভালো লাগে। যদি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কোন ট্যুর এখানে করতে পারে মানে এখানে একসাথে অনেকগুলো অর্থাৎ বিভিন্ন কালচার দেখতে পেল। 

প্রশ্ন: ইয়ং ট্রাভেলারদের বিষয়ে আপনার অভিমত কি?

কাজী আসমা:  ইয়ং ট্রাভেলারদের জন্য আমার বক্তব্য হল সর্বপ্রথম বাংলাদেশটা যেন তারা ধরে রাখে।  নিজের দেশটা ১৮ বছরের মধ্যে দেখে ফেল। এর পর বিদেশ ঘোরো। আমি সব সময় বলি যেন তারা লিগ্যাল ভাবে বিদেশে যায়। তারা মানে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে যায়। কেউ যেন অবৈধ ভাবে বিদেশে না যায়। আমি এটা নিয়ে কাজ করছি। যারা অবৈধ ভাবে যাওয়ার চেষ্টা করে তাদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। যারা ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নস্ট না করে,  তার জন্য আমি দুবার জেল খেটেছি। যারা বেড়াতে যেতে চান যান তারাও হয়তো যেতে পারবেন না, কারণ ঐ একটা লোকের কারনে আপনার চেষ্টাটা নস্ট করে দিচ্ছেন। এ ধরনের লোক হয়তো ৬,০০০ আছে, কিন্তু তারা ৬ লক্ষ বা ৬ কোটি লোকের পথ নস্ট করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়-যারা ছাত্র/স্টুডেন্ট ভিসা বা চাকরী করতে চায় তাদের  যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা ট্রাভেলারদের শত্রু।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সম্পর্কে এবং এর প্রচার প্রচারণা সম্পর্কে আপনার সুপারিশ কি হবে?

কাজী আসমা: আমার ধারণা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন পর্যটকদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। যেমন: কুয়াকাটায় ইয়ুথ হোস্টেল করেছে। যেটা সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা যোগাবে পর্যটকদের। আগে বাচ্চারা স্কুলের বন্ধের ফাঁকে শিক্ষা সফরে যেত যা অনেকটা উঠে যাচ্ছে। এখন অনেকেই একসাথে শিক্ষা সফরে যাচ্ছে। তবে পর্যটন করপোরেশন যদি এধরণের আরো বিভিন্ন জায়গায় ইয়ুথ হোস্টেল করে থাকে তাহলে এ ধরণের উদ্যোগ বেড়ে যাবে। আমার মনে হয় যেখানে বাংলাদেশের মত ছোট একটি দেশ যেখানে অনেক লোকের বসবাস। এ দেশের উন্নতি করতে হলে এ দেশের  জনশক্তিকে জনসম্পদে রুপান্তর করতে হবে। যা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর মাধ্যমে সম্ভব।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসুচীর মধ্যে রয়েছে হোটেল ম্যানেজমেন্ট, হাউজকিপিং, বেকারী প্রশিক্ষণ, ফুড সার্ভিস, ফুড প্রেডাকশন, ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচী। এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচী গ্রহণের মাধ্যমে এর দক্ষতা অর্জন করে কর্সসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে বেকারত্ব নিরসন সম্ভব। তবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা উচিত। 

প্রশ্ন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এ মূল্যবান সময় প্রদানের জন্য। 

কাজী আসমা: আপনাকেও ধন্যবাদ।